মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংষ্কৃতি

মতলব দক্ষিণ উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ওসংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত এইউপজেলাকে ঘিরে রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, ঢাকা বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিভাগেরঅন্যান্য উপজেলাসমূহ। এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলারমতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন কথ্য ভাষায় মহাপ্রাণধ্বনি অনেকাংশে অনুপস্থিত, অর্থাৎ ভাষা সহজীকরণের প্রবণতা রয়েছে। দাউদকান্দি,হাজীগঞ্জ, ফরিদগজ্ঞ, রায়পুর( লক্ষ্নীপুর জেলা)মেঘনা, হোমনা প্রভৃতি উপউপজেলার আঞ্চলিক ভাষার সাথেসন্নিহিত ঢাকা অঞ্চলের ভাষার,  আঞ্চলিক ভাষায়নোয়াখালি এলাকার ভাষার অনেকটাই সাযুজ্য রয়েছে। মেঘনা- ধনাগোদা গোমতী নদীর গতিপ্রকৃতি এ উপজেলার মানুষের আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এই এলাকার ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে মতলব জনপদিট  বহুপ্রাচীন।

ইবনে বতুতা উত্তর আফ্রিকার মরক্কোর তাঞ্জিয়ার শহরে জম্মগ্রহণ করেন (১৩০৪)। তাঁর প্রকৃত নাম আবু আবদুলস্নাহ মোহাম্মদ। আর ডাক নাম কুনিয়াত। জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন হইলে চীন দেশে যাও , রাসুলের (সাঃ) এই বানী ইবনে বতুতাকে গভীরভাবে উৎসাহিত করিয়াছিল। মাত্র একুশ বৎসর বয়সে ১৩২৩ খ্রীস্টাব্দে গৃহের মায়া ত্যাগ, প্রথমে পবিত্র হজ্জ্বব্রত পালন করেন। তারপর তিনি পাড়ি জমান অচেনা অজানা দেশের পথে। ১৩৩৩ খ্রীস্টাব্দে ভারত বর্ষে আসেন। সেই সময় দিলস্নীর সূলতান বিন তুগলুক । তিনি মোহাম্মদ বিন তুগলকের দরবারে কাজীর পদে নিযুক্ত হয়ে সাত বৎসর পর্যমত্ম উক্ত পদে বহাল ছিলেন। এই সাত বৎসরের অভিজ্ঞতা হতেই ভ্রমণ বৃত্তামত্ম লেখেন।
মা-হুয়ানের নেতৃত্বে চীনের সম্রাট ইয়াংলো একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গে বার্বতমা বাঙ্গালা দেশে প্রেরণ করেন ১৪০৬ খ্রীস্টাব্দে। মা-হুয়ান একজন চীনা মুসলমান ছিলেন। তাঁর প্রধান ভূমিকা ছিল চীনের প্রতিনিধি দলের দোভাষীর কাজ করা। তখন বাংলার রাজ ভাষা ছিল ফার্সী। তাঁর বাঙ্গালা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা চীনা ভাষায় রিং-য়াই সেন লাল নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। তাঁহারা চেইটি- গান চট্টগ্রাম আসেন। সেখান হইতে মতলব থানার আশ্বিনপুর অবস্থিত ধর্ম শহর হয়ে সোনা উরকং (সোনারগাঁও) পৌছেন।। চট্টগ্রাম হতে সোনারগাঁয়ের দুরত্ব ৫০০(পাঁচশ) তলা অর্থাৎ ১৬৬ মাইল। সোনারগাঁও হইতে নদী পথে ১০৫ মাইল দÿÿণ ও পশ্চিমে পাংকো-লার বঙ্গের রাজধানীতে পৌছেন গৌড়বালপনাবর্তী।
১৫৬০ খ্রীস্টাব্দের বানতী ব্যারসের মানচিত্রে ট্রপোর নামে একটি স্থানের নাম দেখিতে পাওয়া যায়। এই ট্রপোর অবস্থান মেঘনা নদীর পূর্ব দিকে অবস্থিত দেখানো হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে ঐ ট্রপোই যে ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিলস্না জেলার পশ্চিম অংশ মতলব চাঁদপুর সে বিষয়ে আর কোন দ্বিধাদ্বন্ধ নাই।
১৬২০ খ্রীস্টাব্দে ইউরোপীয় পরিব্রাজক মিঃ পারচাচ সন্দীপ, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর সফর করেন। তারপর মতলব থানার আশ্বিনপুর পূর্ব নাম ধর্ম শহর ছিল উলেস্নখযোগ্য একটি নৌ বন্দর। সেখানে ও অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।
১৬৫২ খ্রীস্টাব্দে স্যালসন ডি আবাবিলের মানচিত্রে ঢাকার পূর্বে সিয়োটের দÿÿণে এবং বেঙ্গোলার উত্তরে ট্রপ্রোর অবস্থান দেখতে পাই। কশনীন ও কেত্তর নদীদ্বয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় এই ট্রপোর অবস্থান। এই থেকে স্থির প্রতীয়মান হয় যে, ট্রপোই ত্রিপুরার সঠিক অবস্থান।
১৭৭৯ খ্রীস্টাব্দে মেজর রেনেলের জরিপ করা মানচিত্রের কুমিলস্না ও চাঁদপুরের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত হয়েছে। বাংলাদেশের পুর্বাঞ্চল কিরাতাস নামে অভিহিত ছিল। তারই মধ্যে ভাগে বর্তমান মেঘনা নদীর গতিপথ প্রাচীন। মোটামোটিভাবে এই কিরাতাসেরই পশ্চিম সীমা নির্ধারণ করত। ব্রহ্মপুত্র নদীটি তখন লোহিত নামে প্রবাহিত হয়ে প্রায় বর্তমান মেঘনার গতিপথ ধরে গিয়েই সাগরে পড়ত। তবে সেই সময় আজকের সাগর ততদূরে ছিল না। পাহাড়ের পাদদেশে যে বিস্তৃত অঞ্চল কিরাতাস নামে পরিচিত ছিল, তারই মধ্যে ভাগে বর্তমান বৃহত্তর কুমিলস্না জেলার অবস্থান।
চাঁদপুর জেলায় মতলব থানা বিভিন্ন দিক দিয়ে এক বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে। মতলবের অতীত যেমন ঐতিহ্য বহন করছে, বর্তমানও তেমনি গৌরবময়, আবার ভবিষ্যতেও তেমনি উজ্জ্বল সম্ভবনাময়। অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের আলোকে এই থানার ব্যাপক পর্যালোচনা প্রয়োজন।
আমাদের অনেক কিছু ছিল, যা আমাদের গর্ভের ও গৌরবের। সেই সমসত্ম আজ হারিয়ে গিয়াছে, অতীতের অতল গহবরে। তাহাদের সন্ধান আর কোন দিনই পাব না। সমতট নামে প্রাচীন রাজ্যের রাজধানীর কর্মামত্ম বসাকের নিকটবর্তী বলে এই খানে এক বিরাট মিশ্র সভ্যতার বিকাশ হয়ে ছিল। বহু রাজ্যের উত্থান -পতন ঘটে ছিল, ময়নামতি, কোর্টবাড়ী ও লালমাই কুমিলস্না জেলার বরেন্দ্র ভূমিতে
সহস্র বৎসর পূর্বের মমও বৌদ্ধ রাজাগণের সময়ে প্রাচীন সমতটের অধিবাসীদের অপূর্ব ভাস্কর্য শিল্প সৃষ্টি আজও বিশ্ববাসীকে বিস্ময়াভিভূত করে। কোর্টবাড়ীর সে কীর্তি আজও অমস্নান অÿয় হয়ে রয়েছে।
শেহশাহের শাসন কালে (১৫৩৯-১৫৪৪ খ্রীঃ) সর্বপ্রথম বাংলাদেশ জরিপ হয়। শেরশাহ বাংলাকে সর্বমোট এক চলিস্নশটি পরগনায় বিভক্ত করেন। মতলব চাঁদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠন হয় মীর মহববত উলস্নাহ (রঃ) এর নাম অনুসারে মহববতপুর পরগনা, বরদিয়া, বোয়ালিয়া, ও সিংহেরগাঁও পরগনার কিছু আংশ নিয়ে মহববতপুর পরগনা গঠিত হয়েছিল। ১৭২৮ খ্রীস্টাব্দে প্রস্ত্ততকৃত রাজস্ব তালিকায় এর রাজস্ব নির্ধারিত হয় ৬৪৫৬ টাকা। ঢাকা নিবাসী সেম সাহেব নামক জনৈক ব্যক্তি সেই পরগনার জমিদারী লাভ করেন। জমিদারীর কাজ কর্ম পরিচালনার জন্য তাহার পÿ থেকে মতলেব খাঁ নামক জ্ঞান ও বিজ্ঞ ব্যক্তিকে অত্র এলাকায় নায়েব হিসেবে প্রেরণ করেন। মতলেবখাঁ দীঘলদী নামক গ্রামে জমিদারী কার্যালয় স্থাপন করেন। সেই স্থানটিকে জমিদারের বের হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
বর্তমান মতলবের নাম ছিল জগনাতগঞ্জ। ১৬২৬ খ্রীস্টাব্দে ১২৫জন বৈরাগী এই বাজারটির প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় মতলব বাজারের পূর্ব অংশে অসংখ্য বট বৃÿ ছিল। এই স্থানে বৈরাগীদের আড্ডায় অনেক লোক আসা যাওয়া করত। চারি দিকে দোকানপাট গড়ে উঠে একটি বাজারে রূপামত্মরিত হয়। পরবর্তী পর্যায়ে বাজারটি বৈরাগী হাট নামে পরিচিতি লাভ করে। মতলবে খাঁর আগমনে বাজারটি আরও পশ্চিম দÿÿণে প্রসারিত হয়। লোক মুখে মতলবে খাঁর হাট নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তী পর্যায়ে ১৮৫৮ খ্রীস্টাব্দে মতলবে খাঁর হাট মতলবগঞ্জ থানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মতলেব খাঁর মতলবগঞ্জ থানা আসেত্ম আসেত্ম বাংলাদেশের থানাগুলির মধ্যে অন্যতম থানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।